কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের (Political transition) পর এক বড় উপহার পেল কলকাতা তথা সমগ্র রাজ্য। আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের (International Yoga Day) মূল অনুষ্ঠানটি এবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে তিলোত্তমায়। এই ঐতিহাসিক কর্মসূচিতে (Historic programme) সশরীরে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক (Ministry of Ayush) সূত্রে জানা গেছে, কলকাতার রেড রোড ও তার সংলগ্ন এলাকায় এই জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতে পারে, যেখানে লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণের (Participation) সম্ভাবনা রয়েছে। এই মেগা ইভেন্টকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য প্রশাসনের তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে।
খাজুরাহো থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বুধবার মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহোর পশ্চিম মন্দির গোষ্ঠী প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘যোগ মহোৎসবে’ এই মেগা পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় আয়ুষ প্রতিমন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ২৫ দিনের কাউন্টডাউন (Countdown) কর্মসূচির সূচনা পর্বে তিনি জানান, ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের (Cultural and spiritual heritage) অন্যতম কেন্দ্রভূমি কলকাতা এবার যোগ দিবসের মূল ভেন্যু হতে চলেছে।
এবারের মূল ভাবনা: সুস্থ বার্ধক্য ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল ভাবনা (Theme) নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’ (Yoga for Healthy Ageing)। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব বলেন, "বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে যোগচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। যোগ কেবল কোনো সাধারণ শরীরচর্চা নয়, এটি ভারতের প্রাচীন জ্ঞানভাণ্ডারের অংশ এবং রোগ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার (Preventive healthcare) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।" গ্রামীণ এলাকা, শহর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যোগচর্চাকে ছড়িয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে আয়ুষ মন্ত্রক নিরন্তর কাজ করছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাসের প্রসারে ‘আয়ুষ আহার’ (Ayush Aahar) উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
কলকাতায় প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও উল্লাস কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান হওয়ার খবরে শহরের যোগপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি নবান্নে (Nabanna) যোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি কলকাতায় এই মূল অনুষ্ঠান আয়োজনের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত (Indication) দিয়েছিলেন।
ক্রীড়াভারতীর প্রদেশ সম্পাদক বিভাস মজুমদার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "আমরা অনেক আগে থেকেই কলকাতায় এই মূল অনুষ্ঠানটি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। এবার সেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ এসেছে।" অন্যদিকে, যোগ দিবস উদযাপন কমিটির সম্পাদক ডক্টর অভিজিৎ ঘোষের মতে, আগামী ২১ জুন কলকাতার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন (Historic day) হতে চলেছে। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনে রাজ্যের ‘ভালো ফলে’র পুরস্কার হিসেবেই মোদী সরকার এই বড় উপহার দিল বাংলাকে।
নতুন ডিজিটাল পোর্টাল ও কর্মসূচি খাজুরাহোর ওই একই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ‘যোগ সঙ্গম পোর্টাল’ (Yoga Sangam Portal)-এর একটি নতুন সংস্করণ উন্মোচন করেন, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অনলাইন নথিভুক্তিকরণ (Online registration) আরও সহজ হবে। একই সাথে বিভিন্ন রাজ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট যোগচর্চার স্থান চিহ্নিত করার লক্ষ্যে ‘যোগ পার্ক পোর্টাল’ (Yoga Park Portal)-এর সূচনা করা হয়।
এছাড়াও, অনুষ্ঠানে যোগ দিবসের বিশেষ টি-শার্টের নতুন নকশা (Design) প্রকাশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘যোগ ৩৬৫ অভিযান’-এর অধীনে চলমান ১০০ দিনের বিনামূল্যের যোগ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ইতিমধ্যেই দুই লক্ষের বেশি মানুষ অংশ নিয়ে ‘যোগ মিত্র’ শংসাপত্র (Certificate) লাভ করেছেন। খাজুরাহোর এই অনুষ্ঠানে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ভার্চুয়ালি (Virtually) যুক্ত হয়ে যোগ ও খাজুরাহোকে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক বলে উল্লেখ করেন।




Comments (0)
Login or Register to comment.