আফ্রিকার কয়েকটি দেশে মারণ ভাইরাস ইবোলার (Ebola Virus) সংক্রমণ নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশজুড়ে সতর্কতা জোরদার করল ভারত সরকার। এরই মধ্যে উগান্ডা থেকে সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে ফেরা এক ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তাঁর শরীরে হালকা ব্যথার উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তড়িঘড়ি তাঁকে শহরের সরকারি এপিডেমিক ডিজ়িজ়েস হাসপাতালে (Epidemic Diseases Hospital) ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্নাটক তথা দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উগান্ডা ফেরত যাত্রী
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তি সম্প্রতি আফ্রিকার উগান্ডা থেকে বেঙ্গালুরুতে ফিরেছেন। তাঁর শরীরে মৃদু শারীরিক দুর্বলতা ও গা-হাত-পা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। ইবোলা কবলিত দেশ থেকে ফেরায় কোনো ঝুঁকি না নিয়ে প্রশাসনের তরফ থেকে তাঁকে অবিলম্বে আইসোলেশনে পাঠানো হয়। বর্তমানে বেঙ্গালুরুর সরকারি এপিডেমিক ডিজ়িজ়েস হাসপাতালে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাঁকে। তবে ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই তাঁকে সাধারণ রোগীদের থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে।
নমুনা গেল পুনের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতে’
উগান্ডা ফেরত ওই ব্যক্তির শরীরে সত্যিই ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে তাঁর লালারস ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন:
“যাত্রীর শরীর থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতে (NIV) পাঠানো হয়েছে। সেই পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি। রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট জানা যাবে এটি ইবোলা সংক্রমণ নাকি সাধারণ কোনো ভাইরাল জ্বর।”
রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে কড়া নজরদারিতে রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনে তৎপরতা
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশিকা ও প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলা হচ্ছে। কর্নাটক সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ রাখছে কেন্দ্র। দেশের সমস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং নির্দিষ্ট এন্ট্রি পয়েন্টগুলিতে স্ক্রিনিং এবং মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকা বা ইবোলা কবলিত দেশগুলি থেকে যে সমস্ত যাত্রীরা ভারতে আসছেন, তাঁদের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের পাশাপাশি তাঁদের ট্রাভেল হিস্ট্রিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন কেন্দ্রের
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক দেশবাসীর উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, এখনও পর্যন্ত ভারতে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগীর সন্ধান মেলেনি। আফ্রিকার দেশগুলিতে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতেই এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে। যেকোনো তথ্যের জন্য শুধুমাত্র সরকারি বুলেটিন বা আধিকারিক সূত্রের ওপর ভরসা রাখতে বলা হয়েছে।
অতীতের অভিজ্ঞতা ও ভারতের প্রস্তুতি
এর আগেও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে যখনই ইবোলার প্রকোপ দেখা গিয়েছে, তখন ভারতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। অতীতেও আক্রান্ত দেশগুলি থেকে আসা বেশ কয়েকজন যাত্রীকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলেও, ভারতে কোনোদিন ইবোলার সংক্রমণ ছড়াতে পারেনি। ভারতের শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা এবং কড়া স্ক্রিনিং ব্যবস্থার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি, এবারও দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাই সাধারণ মানুষের অযথা আতঙ্কিত বা ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে সতর্কতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।


Comments (1)
Login or Register to comment.
Nice