ব্রেকিং নিউজ! দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে বিজেপির দেবাংশু পণ্ডার ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার সরাসরি বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বিরাট জয়কে তিনি গণতন্ত্রের জয় এবং যাবতীয় ভয়ভীতির পরাজয় বলে উল্লেখ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে ঢেউ তুলেছে এবং বিজেপির আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই আসনে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা প্রায় ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন, যা এক কথায় অভাবনীয়। রবিবার ভোটের ফল প্রকাশের পর এই খবর আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। এই জয়ের পরপরই বিজেপির এই তরুণ নেতাকে অভিনন্দন জানালেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ এপ্রিল এই কেন্দ্রে একাধিক আসনে গণ্ডগোলের অভিযোগ উঠেছিল। যার ফলস্বরূপ নির্বাচন কমিশন সেখানকার সব ক'টি বুথেই ফের ভোট করানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে ওই আসন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। এই পরিস্থিতিতে ফলতার মানুষ উৎসবের মেজাজে ভোট দিয়েছিলেন। ভোটের আগে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই আসনে বিজেপি এক লক্ষ ভোটে জিতবে বলে যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, রবিবার ফল প্রকাশের পর সেই ব্যবধান মিলে যাওয়ায় তা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফলতার ফলাফলের পর পরই পশ্চিমবঙ্গবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেবাংশু পণ্ডাকে অভিনন্দন জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন,
‘ফলতার মানুষ কথা বলেছেন। গণতন্ত্র জিতেছে এবং ভয়ভীতি হেরে গিয়েছে। এটি বিজেপির প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের অটল আস্থারই প্রতিফলন। পশ্চিমবঙ্গের সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে অসাধারণ এবং ব্যতিক্রমী কাজ করে চলেছে, তা মানুষের নজর এড়ায়নি। আর, ঠিক সেই কারণেই তাঁরা আমাদের আবারও আশীর্বাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
এই সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী দিনেও পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির জন্য কাজ করে যাবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা নিঃসন্দেহে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে কাজ করবে।
ফলতার জয়ের পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল তৃণমূলের হার-বার মডেলে’ পরিণত হয়েছে। ফলতার ভোটারদের কাছে বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, কাজের মাধ্যমেই এই ঋণ শোধ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সাথে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ফলতার মানুষ এত দিনে স্বাধীনতা পেয়েছেন। এই মন্তব্য তৃণমূলের বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণকে আরও শানিত করেছে।
ফলতার এই জয়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। এবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনেও উপ-নির্বাচন হবে। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ওই আসনেও বিজেপি জিতবে। ফলতার ফলাফল নিঃসন্দেহে আসন্ন নন্দীগ্রাম উপ-নির্বাচনে বিজেপির পালে হাওয়া দেবে এবং তৃণমূলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। সামগ্রিকভাবে, ফলতার এই রায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




Comments (0)
Login or Register to comment.