জেনে নিন একজন সিজারিয়ান মায়ের খাবার তালিকা সম্পর্কে

surgeon mother
জন দেখেছেন : 1796
0 0
Read Time:9 Minute, 57 Second

ডিজিটাল ডেস্ক –  মূলত একজন সিজারিয়ান মায়ের খাবার তালিকা সম্পর্কে জানতে হলে প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত দেখুন। সিজারের পর একজন মাকে বুঝে শুনে খাবার খেতে হয়। এ সময় শুধু মায়ের শরীরের কথা চিন্তা করলেই চলে না সাথে সাথে বাচ্চার কথা চিন্তা করে খাবার খেতে হয়। তাই অবশ্যই এই সময় একজন মায়ের খাবারের দিকে বিশেষ যত্নশীল হতে হয়।

সিজারিয়ান মায়ের খাদ্য – সিজার বা সি সেকশন এর মাধ্যমে বাচ্চার জন্ম দেওয়া একটি মায়ের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ‌। সি সেকশনের মাধ্যমে বাচ্চার জন্ম হলে একজন মা মানসিক এবং শারীরিক উপায় দিক থেকে ডিপ্রেশনে থাকে। অস্ত্র পাচার থেকে আরোগ্য লাভ করার জন্য মায়ের পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং একটি নিয়ন্ত্রিত খাবার তালিকা প্রয়োজন হয়। সি সেকশন হওয়ার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ মাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরী। এ সময় একজন মাকে মানসিক স্ট্রেস দূর করা এবং শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য

দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য যেগুলোতে আমিষ প্রোটিন ভিটামিন বি  ডি ক্যালসিয়াম আছে যেগুলো খেলে মায়ের বুকের দুধ উৎপাদন হয় এবং মায়ের শরীরেরপুষ্টি যোগায় মাকে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে, সিজারিয়ানের পর দ্রুত ক্ষত শুকাতে সাহায্য করে সেই সমস্ত খাবার খেতে হবে। যেমন পনির দই এগুলোতে প্রচুর পরিমাণ আমিষ এবং প্রোটিন পাওয়া যায়।

তাজা ফল ও শাক-সবজি

যেসব ফল ও শাকসবজিতে ভিটামিন এ, সি ,আয়রন ও ক্যালসিয়াম থাকে সেই সমস্ত ফল ও শাকসবজি খাওয়া একজনসিজারিয়ান মায়ের জন্য জরুরি। যেমন মাল্টা কমলা আপেল লেবু যেকোনো মৌসুমী ফল খাওয়া  উচিত।

এছাড়াও ফুলকপি বাঁধাকপি কলমি শাক লাল শাক পালং শাক লাউ একজন সিজারিয়ান মায়ের  খাওয়া খুবই দরকার। কারণ এসব খাবারের ভিটামিন সি ভিটামিন এ ক্যালসিয়াম থাকে যা থেকে মা ও সন্তান পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টি পায়।

 

  • শস্যজাতীয় খাবার

ব্রাউন চাল আটা ওটস ডাল এসব খাবারের প্রচুর পরিমাণ ফলিক এসিড আইরন ও ফাইবার থাকে যা একজন সিজারিয়ান মায়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া অস্ত্র পাচারের পরবর্তী কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও এসব খাবারের বিকল্প নেই।

  • কালোজিরা

কালোজিরা একজন প্রসূতি মায়ের জন্য অপরিহার্য খাবারের মধ্যে অন্যতম একটি। কালোজিরা একজন সিজারিয়ান মায়ের বুকের দুধ উৎপাদনে সাহায্য করে। কালোজিরা খেলে মায়ের বুকের দুধের উৎপাদন বাড়ে। এতে শিশু সঠিক পুষ্টি গুনে বেড়ে ওঠে।

  • ডিম

ডিমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ ,ডি পাওয়া যায়।এবং এইস ডি এল কোলেস্টেরলের উৎস হলো ডিম। তাছাড়া আর টিমে রয়েছে আমিষ প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। একজন প্রসূতি মায়ের জন্য প্রতিদিন ডিম খাওয়া জরুরী। এতে মায়ের শরীরে আমিষ ও প্রোটিনের মাত্রা ঠিক থাকে এবং বাচ্চাও সুস্থ থাকে।

  • মাছ মাংস

মাছ মাংসে প্রচুর পরিমাণে আমিষ ও প্রোটিন পাওয়া যায়। জাকির নায়েকজন প্রসূতি মাকে সুস্বাস্থ্য বজায় রেখে বাচ্চাকে সঠিক পুষ্টি দিতে সহায়তা করে। একজন সিজারিয়ান প্রসূতি মায়ের খাদ্য তালিকায় মাছ ও মাংস থাকা জরুরী।

  • বাদাম

বাদামে প্রচুর পরিমাণে শর্করা ভিটামিন বি ১২, ভিটামিন ই, ওমেগা ৩ ,ফ্যাটি এসিড এবং ফাইবার বিদ্যমান রয়েছে। একজন সিজারিয়ান প্রসূতি মায়ের শরীরের জন্য বাদাম বেশ উপকারী একটি খাবার। বাদামে যে পুষ্টি গুণ রয়েছে তা মাকে এবং বাচ্চাকে সুস্থ থাকতে সহায়তা করে।

  • জল

একজন প্রসূতি মায়ের দিনে কমপক্ষে আট থেকে দশ গ্লাস জল পান করা উচিত। এছাড়া তরল জলীয় যেমন ডাবের জল কম ফ্যাট যুক্ত দুধ ভেষজ চা শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে।

সিজারিয়ান মায়ের জন্য কিছু করণীয়

  • একজন প্রসূতি মা যদি বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর আগে এক গ্লাস পানি বা তরল জাতীয় পানীয় যেমন ডাবের পানি দুধ ফলের রস স্যুপ খায় তাহলে বুকের দুধ বেশি নিঃসারিত হয়।
  • প্রতিদিন একজন প্রসূতি মায়ের দুধ দগ্ধ জাতীয় খাবার মাছ মাংস ডিম ডাল জাতীয় খাবার যেগুলোতে প্রোটিন ভিটামিন ক্যালসিয়াম ফ্যাটি এসিড ছাড়াও অন্যান্য পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়।
  • সকাল এবং বিকেলের সূর্যের আলোতে ভিটামিন ডি থাকে তাই প্রসূতি মা এবং শিশুর জন্য সূর্যের আলোতে কিছুক্ষণ অবস্থান করা উচিত।
  • প্রতিদিন গাঢ় সবুজ শাকসবজি মৌসুমী ফল খেলে ভিটামিন সি আয়রন ক্যালসিয়াম বিটা ক্যারোটিন পাওয়া যায়। এছাড়া এসব ফল শাকসবজিতে হয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ যা প্রসূতি মায়ের শরীরের জন্য‌‌ দরকার।
  • শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ও মানসিক বিকাশ সাধনে আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়া একজন প্রসূতি মায়ের উচিত। সিজারিয়ান এর পর বা বাচ্চা জন্মদানের পর একজন মাকে তার শরীরের পাশাপাশি বাচ্চার শরীরের কথা চিন্তা করে খাদ্য গ্রহণ করতে হয় তাই এই সময় অতিরিক্ত তেল মসলা জাতীয় খাবার কি এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত তেল মসলা জাতীয় খাবার বাচ্চা এবং মায়ের শরীরের ক্ষতির কারণ।
  • একজন মাকে অবশ্যই খাদ্য গ্রহণে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে না হলে খাদ্যবাহিত রোগের আক্রমণে পড়তে হবে। এছাড়াও মাছ মাংস ডিম শাকসবজি ভালো করে রান্না করে খেতে হবে যাতে বাচ্চা মায়ের বুকের দুধ খেয়ে কোনভাবেই অসুস্থ না হয়ে পড়ে।

অসহনীয় কষ্ট সহ্য করে একজন মা একটি শিশুর জন্ম দেয়। সন্তান গর্ভে ধারণ থেকে জন্ম দেওয়া পর্যন্তই মায়েদের ত্যাগ স্বীকার করার দিন শেষ নয় বরং মায়ের দায়িত্ব আরো বহুগুণ বেড়ে যায়।একজন গর্ভবতী মায়ের থেকেও একজন প্রসূতি মায়ের বেশি খাবার খাওয়া প্রয়োজন কারণ একজন প্রসূতি মাকে নিজের শরীরের ক্ষয় পূরণের পাশাপাশি বাচ্চার শরীরের পুষ্টির দিকে নজর দিতে হয়।

সিজারিয়ান মায়ের কতদিন পর্যন্ত ক্ষত শুকাতে ওষুধ খেতে হয়?

সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা জন্মদান মানে অস্ত্রপাচার করা যা একজন মায়ের পক্ষে মোটেও সহজ নয়। এতে একজন মা শারীরিক এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়। নির্দিষ্ট কিছু সময় পর্যন্ত একজন সিজারিয়ান মাকে তার ক্ষত শুকাতে ওষুধ খেতে হয়। তবে এই ওষুধ কত দিন পর্যন্ত খেতে হবে তাই একমাত্র তার অস্ত্র পাচারকারী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।

একজন সিজারিয়ান মাকে কি কি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে?

অতিরিক্ত মসলা জাতীয় খাবার বেশি ঝাল খাবার তেলে ভাজা জাতীয় খাবার তেঁতুলের টক এ সমস্ত খাবারগুলো একজন সিজারিয়ান মায়ের জন্য মোটেও স্বাস্থ্যকর নয় যার কারণে এসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Next Post

ঐন্দ্রিলা নেই! তাই আজ গপ্পো মীরের ঠেক বন্ধ - মীর এর অমোঘ সিদ্ধান্তে প্রশংশার ঝড়

Mon Nov 21 , 2022
বাংলা সিনেমা কি রেডিও মির্চির রহস্য ভরা সানডে সাসপেন্স আর মীরাক্কেলের হোস্ট মীর (Mir Afsar Ali) সর্বদাই ব্যাতিক্রম। যেখানে অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মার (Aindrila Sharma) অকাল মৃত্যুতে থ লেগে গিয়েছে বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রি।
Mir Afser Ali Aindrila Sharma