আন্তর্জাতিক
সিডনির জঙ্গি ‘ভারতীয়’ পরিচয়ে? পাসপোর্ট ঘিরে নতুন প্রশ্ন
সিডনির বন্ডি বিচে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তদন্তে নতুন মোড়। হামলাকারী সাজিদ আক্রমের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ভারতীয় পাসপোর্ট। সামনে এসেছে হায়দরাবাদ যোগ ও পরিবারের বক্তব্য।
অস্ট্রেলিয়ার (Australia) সিডনির বন্ডি বিচে (Bondi Beach) ইহুদিদের ‘হানুকা’ (Hanukkah) উৎসব চলাকালীন ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে ১০ বছরের শিশুর পাশাপাশি হিটলারের হলোকাস্ট (Holocaust) থেকে বেঁচে যাওয়া ৮৭ বছরের এক বৃদ্ধও। এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্তে এ বার সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য— হামলাকারীর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট (Indian Passport)।
তদন্তকারীদের দাবি, হামলাকারী সাজিদ আক্রমের কাছ থেকেই ওই পাসপোর্টটি পাওয়া গিয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই ঘটনায় নতুন মোড় নেয় তদন্ত। কারণ প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছিল, আক্রম পরিবার পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত।
ম্যানিলা (Manila) ও সিডনি পুলিশের যৌথ রিপোর্ট অনুযায়ী, হামলার আগে সাজিদ আক্রম এবং তার ২৪ বছরের ছেলে নাভেদ আক্রম ফিলিপাইন্সে গিয়ে বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ (military training) নিয়েছিল। ১ থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত তারা দক্ষিণ ফিলিপাইন্সের একটি জঙ্গি ঘাঁটিতে (terror camp) ছিল। সেখানে নাভেদ তার অস্ট্রেলীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করলেও, সাজিদ ব্যবহার করেছিল ভারতীয় পাসপোর্ট।
এই প্রশ্নেই ধন্দে পড়েন তদন্তকারীরা— পাকিস্তানি যোগ থাকা এক ব্যক্তির হাতে কীভাবে এল ভারতীয় পাসপোর্ট? ব্লুমবার্গের (Bloomberg) রিপোর্ট অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের (MEA – Ministry of External Affairs) প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে ‘দ্য প্রিন্ট’ (The Print) ও ‘নিউজ় মিনিট’ (News Minute) জানায়, সাজিদ আক্রমের পরিবারের সূত্র মিলেছে ভারতের হায়দরাবাদের (Hyderabad) ওল্ড সিটি এলাকায়। দুই সংবাদমাধ্যমের দাবি, সাজিদ সেখানকারই বাসিন্দা ছিল। এখনও ওই এলাকায় তার দুই ভাই ও অন্যান্য আত্মীয়রা থাকেন। যদিও পরিবারের বক্তব্য, বহু বছর ধরে সাজিদের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগাযোগ নেই। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে এক খ্রিস্টান মহিলাকে (Christian woman) বিয়ে করার পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তার।
‘দ্য প্রিন্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালে সাজিদ পড়াশোনার জন্য স্টুডেন্ট ভিসায় (student visa) অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিল। এরপর আর ভারতে ফেরেনি। সেখানেই বিয়ে করে এবং সেখানেই জন্ম হয় তার ছেলে নাভেদের।
এ দিকে, বন্ডি বিচের ঘটনাস্থল থেকে অস্ট্রেলীয় পুলিশ আইএস (ISIS) জঙ্গি গোষ্ঠীর দু’টি পতাকা এবং একটি ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED – Improvised Explosive Device) উদ্ধার করেছে। এই তথ্য থেকেই অনুমান করা হচ্ছে, আইএস-এর মতাদর্শেই এই হামলা চালানো হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ় (Anthony Albanese) নিজেও সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য, ২০১৯ সালেই আইএস-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে নিরাপত্তা সংস্থার নজরে এসেছিল নাভেদ আক্রম।
বাবা-ছেলের সঙ্গে কোনও আন্তর্জাতিক জিহাদি নেটওয়ার্কের (international jihadi network) সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে ছেলের আইএস যোগ, বাবার ভারতীয় পাসপোর্ট এবং ফিলিপাইন্সে জঙ্গি প্রশিক্ষণ— এই তিনটি সূত্র মিলিয়ে বড়সড় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
