মুসলিম ধর্মাবলম্বীর হাতের তৈরি হিন্দু ধর্মের প্রতিমা! সম্প্রীতির অনন্য নজির দাসপুরের ইসমাইলের!

জন দেখেছেন : 13
0 0
পড়তে সময় লাগবে :3 মিনিট, 30 সেকেন্ড

বেঙ্গল এক্সপ্রেস নিউজ :  ভিন ধর্মের মানুষ হয়েও ইসমাইল চিত্রকরের তৈরি কালীপ্রতিমা পূজিত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে৷ তাঁর এই কাজ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির তৈরি করেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর! প্রতি বছরই বিভিন্ন দেব-দেবীর পুজার সময় দেব-দেবীর মূর্তি কিনতে ক্রেতারা ভিড় জমান ইসমাইলের বাড়িতে৷ ঠাকুর কিনতে মানুষজন আসেন ভিন জেলা থেকেও৷ প্রায় চার দশক ধরে হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তি, পট তৈরি করে চলেছেন ইসমাইল৷

এই কাজে তাঁর স্ত্রী, ও দুই মেয়ে তাঁকে সাহায্য করেন৷ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর থানার নাড়াজোল গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল চিত্রকর। বয়স ৬১ বছর৷ পট আর মূর্তি তৈরি করেই সংসার চালান ইসমাইল৷ স্ত্রী ও মেয়েদের সহযোগিতায় একের পর এক গড়ে তোলেন লক্ষ্মী, সরস্বতী, কালী, কার্তিক, গণেশের প্রতিমা৷ এলাকায় তাঁর কাজের কদর রয়েছে। তাই ক্রেতার অভাব হয় না৷ ফলে সারা বছরের খোরাকিটুকু জুটে যায়। রাজ আমল থেকে এই কাজ করে আসছেন তাঁদের পূর্বপুরুষেরা। এখন রাজার রাজত্ব না থাকলেও বাপ, ঠাকুরদার পেশা ছাড়তে পারেননি সেও৷ হিন্দু দেব-দেবীর প্রতিমা গড়ে রোজগার করতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন ইসমাইলরা৷ গত বছর করোনা আবহে বরাত তেমন জোটেনি। তবে এবছর কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন ইসমাইল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা৷ কালীপুজোয় ভালো কাজ করে দু-পয়সা পেয়েছেন বৃদ্ধ শিল্পী। সেই কাজ এখনও চলছে জোরকদমে। কারণ, হাতে আর সময় নেই বললেই হয়।

দাসপুরের এই ঘটনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়েছে৷ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য অনেক মানুষ ধর্মকে শিখণ্ডি করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে উঠে পড়ে লেগেছে৷ তাঁদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, ইসমাইলের মতো মানুষের কাছে, ধর্ম যার-যার, উৎসব সবার৷ ইসমাইলের পাশে রয়েছেন অমর কুণ্ডুর মতো প্রতিবেশীরাও৷ যাঁদের কাছে হিন্দু, মুসলমানের হানাহানি একেবারেই অনভিপ্রেত৷ অমর কুণ্ড বলেছেন, ইসলাম ধর্মের এই শিল্পী হিন্দু দেবীর অবয়ব গড়ছেন, এমন দৃশ্য দেখেই বড় হয়েছেন তাঁরা৷ তাই তাঁদের কাছে সাম্প্রদায়িক বলে কিছু নেই। তাঁরা ভালবাসেন মিলেমিশে থাকতে এবং এক সাথে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উৎসবে মেতে উঠতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Next Post

একান্ন পীঠের এক পীঠ তমলুকের দেবী বর্গভীমা, আজও শক্তি পুজো শুরুর আগে রয়েছে অনুমতি নেওয়ার প্রথা

Thu Nov 4 , 2021
বেঙ্গল এক্সপ্রেস নিউজ : পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সদর শহর ঐতিহাসিক তাম্রলিপ্ত বা তমলুকের আজও মধ্যমণি ‘মা বর্গভীমা’। কয়েক হাজার বছর ধরে শক্তি স্বরূপিণী আদ্যাশক্তি মহামায়া রূপে দেবী বর্গভীমার আরাধনা চলে আসছে। মতান্তরে তিনি ভীমরূপা বা ভৈরব কপালী নামেও পরিচিত। অতীতের প্রায় সব কিছুই ধ্বংসের মুখে […]