নেত্রীর পায়ে ধরে বলেছি গাদ্দারদের দলে ঢোকানো যাবে না! গোসাবা, খড়দহের প্রচারে অভিষেকের হুঙ্কার

জন দেখেছেন : 25
0 0
পড়তে সময় লাগবে :6 মিনিট, 54 সেকেন্ড

বেঙ্গল এক্সপ্রেস নিউজ: রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসার পর এবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাখির চোখ করেছেন ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনকে। কেন্দ্রে অবিজেপি সরকার গড়তে ইতিমধ্যেই দেশের অন্যতম বিজিপি বিরোধী মুখ হয়ে উঠেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই আজ গোসাবায় উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচারে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেশনেত্রী বলে সম্বোধন করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বলেছেন, ‘আজ গোটা দেশ তাকিয়ে আছে দেশনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। কারণ একমাত্র তিনিই পারেন বিজেপিকে হারিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে। যেখানে গণতন্ত্রকে ভূলুণ্ঠিত করছে বিজেপি, সেখানেই প্রতিবাদের ধ্বজা ধরে এগিয়ে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।দেশের যে সমস্ত বিজেপি শাসিত রাজ্যে গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত, মানুষের স্বাধীনতা নেই, সেখানেই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ তিনিই আসল দেশনেত্রী। গোয়া ও ত্রিপুরায় সংগঠন কাজ শুরু করে দিয়েছে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে গোয়া এবং দেড় বছরের মধ্যে ত্রিপুরায় তৃণমূলের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার গঠন হবে।

আগামী তিন মাসের মধ্যে আরও পাঁচটা রাজ্যে ঢুকব। আমরা সেখানে ঢুকে তৃণমূলকে প্রতিষ্ঠা করব। বিজেপির ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক।’ পাশাপাশি বিজেপি নেতৃত্বকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি অভিষেক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেছেন, ‘বিধানসভা ভোটের আগে এখানে এসে বলে গিয়েছিলেন, সুন্দরবনকে আলাদা জেলা করে উন্নয়নের জন্য ২ লক্ষ কোটি টাকা দেবে। আজ যখন আবারও একটা ভোটের সামনে দাঁড়িয়ে গোসাবা, কোথায় গেলেন বিজেপির নেতারা? দিল্লি, মধ্যপ্রদেশের নেতাদের কথা না হয় ছেড়ে দিলাম, করোনা বা আমফানের সময় বিজেপির স্থানীয় নেতাদেরও দেখেছেন কি? এটাই হল তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির পার্থক্য।’ এ দিন কংগ্রেস সিপিএম’কেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

বাম, কংগ্রেসকে ভোট দিয়ে ভোট নষ্ট না করতেও অনুরোধ করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘কংগ্রেস, সিপিএমের একটাই লক্ষ্য, যে করেই হোক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাও। তাতে বিজেপি সুবিধা পেয়ে গেলেও ওদের ভ্রুক্ষেপ নেই। ওদের দিয়ে ভোটটা নষ্ট করবেন না।’ শুধু তাই নয়, বিজেপি ছেড়ে যারা তৃণমূলে ফিরতে চাইছে তাদের ছেঁকেই দলে ফেরানো হবে বলে জানিয়েছেন অভিষেক। এমনকি যারা ফিরেছেন তাদের প্রায়শ্চিত্ত করানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। আজ খড়দহে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হয়ে প্রচারে গিয়ে অভিষেক বলেছেন, ‘অনেকে ভয় পাচ্ছেন, আবার যদি ভোটের পর বিজেপির গদ্দারগুলো ঢুকে পড়ে। আরে ঢুকতে দেব না।

আমি আছি তো। আর যে দু-একজন ঢুকছে, তাদের অনেক প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে। এত সস্তা নয়। আমি নেত্রীর পায়ে ধরে বলেছি, কর্মীদের আবেগকে মান্যতা দিয়ে আর যাই হোক বিশ্বাসঘাতকদের দলে ঢোকানো যাবে না। ৫ জন এমএলএ ঢুকেছেন, শুনে রাখুন, যদি দরজা খুলি না, কাল বিজেপি দলটা উঠে যাবে। আমরা দরজা বন্ধ করে রেখেছি। এবারের তৃণমূলের সঙ্গে আগের তৃণমূলের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। আলাদা তৃণমূল এটা।’ এই চার কেন্দ্রের উপনির্বাচন নিয়েও নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছেন অভিষেক। বলেছেন, ‘উপনির্বাচনের প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু দু’জন সাংসদ ভোটে দাঁড়ালেন।

আবার মানুষের রায় প্রত্যাখ্যান করে মন্ত্রী হবে এবং সাংসদ থাকবে বলে ইস্তফা দিল! আর মানুষের জন্য নিজেদের উজাড় করে দিতে গিয়ে, মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে প্রয়াত হলেন কাজল সিনহা, জয়ন্ত নস্কর। বাংলায় এক দফায় নির্বাচনে হলে এই দুর্গতি হত না। তা হলে জয়ন্ত নস্কর, কাজল সিনহা, অজয় দে’কে হারাতে হত না।’ খড়দহের তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অভিষেক বলেছেন, ‘২৯৪ আসনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ লোককে পাঠানো হয়েছে খড়দহে। নিপাট ভদ্রলোক।

অতুলনীয়, অপ্রতিরোধ্য জুটি সৌগত রায় এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। খড়দহের ট্রেন্ড বিধায়ক নয়, মন্ত্রীকে নির্বাচন করা। খড়দহ থেকে ৫০ হাজারের বেশি ভোটে জিতবেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। উনাকে ভোট দেওয়া মানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত হবে। সৌগত রায় আর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের এমন জুটি, এমন কম্বিনেশন ভূ-ভারতে নেই। কংগ্রেস আদর্শ বিকিয়েছে। আদর্শহীন দলকে ক্ষমা করা যায় না। এত ভালো বিধায়ক সারা বাংলায় কোথাও পাবেন না।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Next Post

স্বাভাবিক জীবনে ফিরে সরকারি চাকরি পেলেও আবার জঙ্গি দলে ফিরতে চান প্রাক্তন কেএলও নেতা

Sat Oct 23 , 2021
বেঙ্গল এক্সপ্রেস নিউজ: একসময় ছিলেন কেএলও জঙ্গি দলের লেফটেন্যান্ট কামান্ডার নারায়ণ রায় তথা তরুণ থাপা। অনেকদিন জেল খাটার পর সরকারের সাথে রফা করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। রাজ্য সরকারও জঙ্গি দলের নেতাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি। স্বাভাবিক জীবনে মানিয়ে নিতে […]