রুশ আগ্রাসনে মারিউপোলে শ্মশানের নিস্তব্ধতা, খোঁড়া হচ্ছে গণকবর
Connect with us

আন্তর্জাতিক

রুশ আগ্রাসনে মারিউপোলে শ্মশানের নিস্তব্ধতা, খোঁড়া হচ্ছে গণকবর

Rate this post

বেঙ্গল এক্সপ্রেস নিউজ: টানা ১৬ দিন ধরে চলছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ। দুই দেশের এই টানাপোড়েনের জেরে ইউক্রেনের শহরগুলিতে আজ শুধুই শ্মশানের নিস্তব্ধতা। রুশ সেনার আগ্রাসনে ফুটে ওঠার আগে ঝরে গিয়েছে অসংখ্য শিশুর প্রাণ। প্রাণের তাগিদে বাড়িঘর ছেড়ে শরণার্থীদের মতন পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী দেশগুলিতে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন তাঁরা।

শুধু তাই নয়, মুহুর্মুহ গোলা বর্ষণ আর বোমা বিস্ফোরণের জেরে ইউক্রেনের অন্যতম বৃহত্তম শহর মারিউপোল ছেঁড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন সেখানকার বাসিন্দারা। এমনকি মৃত ব্যক্তিদের সৎকারের জন্যও নেই লোক। শহরজুড়ে শুধুই খোঁড়া হচ্ছে গণকবর। এদিকে রাশিয়ান বাহিনীর হামলায় নরকে পরিণত হয়েছে মারিউপোল। সেখানে প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। এই বিষয়ে মারিউপোলের মেয়র ভিদম বোচেৎন্সস্ক জানিয়েছেন, প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর মারিউপোল শহরের হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। এখনও পর্যন্ত রুশ আগ্রাসন থেকে বাঁচতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ শহর ছেঁড়ে পাড়ি দিয়েছেন অন্যত্র। তিনি আরও বলেন, ”শহরের বড়-বড় আবাসনগুলিকে লক্ষ্য করে বোমা ছুঁড়ছে রাশিয়া। তাঁরা চাইছে পুরো শহরটাকে ধ্বংস করে দিতে।”

তিনি আরও বলেন, ”প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর রুশ সেনাবাহিনী এসে প্লেনে করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের আক্রমণের জেরে ইতিমধ্যে মারিউপোলের বহু শিশু এবং নারীরা প্রাণ হারিয়েছেন। ক্রমশ জনশূন্য হয়ে পড়ছে শহর। তাহলে কি এটাই রুশ বাহিনীর নৈতিকতা বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি।”

Advertisement

আরও পড়ুন: রাশিয়া থেকে ব্যাবসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল কোক, পেপসি সহ একাধিক সংস্থা

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র মারিউপোলের উপর রুশ আগ্রাসনের জেরে গত ১০ দিনে ১৩ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের তরফে প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিনে ইউক্রেনজুড়ে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শুধুমাত্র মারিউপোলে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৪৯ জন সাধারণ নাগরিক। তাঁদের মধ্যে শিশু রয়েছে ৪১ জন। মৃতের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘ।

আরও পড়ুন: মার্কিন মুলুকে বসে দেশের বাড়িতে চোর ধরলেন গৃহকর্তা

Advertisement

অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেন্সকি জানিয়েছেন, রুশ হামলার জেরে দেশের বিভিন্ন শহরে নাগরিকদের কাছে খাবার জল পৌঁছে দিতে সমস্যা হচ্ছে। খাবার জলের গাড়িগুলি লক্ষ্য করে ট্যাংকার বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে রাশিয়া। শুধু তাই নয়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে একটানা রুশ হামলায় বিপর্যস্ত স্বাভাবিক জনজীবন। ধ্বংস হয়ে গিয়েছে হাজার,হাজার হাসপাতাল, স্কুলবাড়ি। গোলাগুলির শব্দে শৈশব ভুলতে চলেছে সেদেশের শিশুরা। বন্ধুত্বের হাত ছেঁড়ে গুটিগুটি পায়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই অজানা পথে পা বাড়িয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেশ ছাড়ছেন খুদেরাও।

 

Advertisement