বিনোদন
প্রথম ফেমিনা মিস ইন্ডিয়ার বিদায়, ৮১ বছরে থামল মেহের ক্যাস্তেলিনোর পথচলা
প্রথম ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া মেহের ক্যাস্তেলিনো প্রয়াত। র্যাম্প, সাংবাদিকতা ও নারী আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য অধ্যায় শেষ হল।
এক সময় ছিল, যখন প্রকাশ্যে দাঁড়ানো মানেই সমাজের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া। আলোয় নিজেকে তুলে ধরাই ছিল এক ধরনের প্রতিবাদ। ঠিক সেই সময়েই নীরব সাহসের প্রতীক হয়ে উঠে এসেছিলেন মেহের ক্যাস্তেলিনো (Meher Castelino)।
৮১ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন দেশের প্রথম ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া (Femina Miss India)। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ভারতীয় পেজেন্ট (Pageant) ও ফ্যাশন দুনিয়া। তিনি শুধু একটি শিরোপার অধিকারী ছিলেন না—তিনি ছিলেন এক যুগান্তকারী পথিকৃৎ, যাঁর হাত ধরেই বদলাতে শুরু করেছিল সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি।
১৯৬৪ সালে ফেমিনা মিস ইন্ডিয়ার মুকুট জয় ছিল নিছক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার ফল নয়, বরং সমাজের চোখে চোখ রেখে দাঁড়ানোর এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। মুম্বইয়ে (Mumbai) জন্ম নেওয়া মেহের এমন এক সময়ে র্যাম্পে পা রেখেছিলেন, যখন ফ্যাশন ও নারীর আত্মপ্রকাশকে সন্দেহের চোখে দেখা হত। সেই অদৃশ্য অথচ কঠিন সামাজিক দেওয়ালে প্রথম নীরব আঘাত করেছিলেন তিনিই—দৃঢ়তা ও আত্মমর্যাদা নিয়ে।
তাঁর সেই জয় খুলে দিয়েছিল নতুন দরজা। সেই পথ ধরেই পরবর্তী প্রজন্মের নারীরা এগিয়ে যেতে শুরু করেন আত্মবিশ্বাসে ভর করে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করেন মিস ইউনিভার্স (Miss Universe) ও মিস ইউনাইটেড নেশনস (Miss United Nations)-এ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দুই হাজারেরও বেশি ফ্যাশন শো (Fashion Show)-তে অংশ নিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন ভারতীয় নারীর আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।
র্যাম্পই ছিল তাঁর প্রথম ভাষা, তবে সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি মেহের। ফ্যাশনের আলোর বাইরে গিয়েও তিনি গড়ে তুলেছিলেন শক্তিশালী পরিচয়। ১৯৭৩ সালে Eve’s Weekly-তে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম লেখা। ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন প্রখ্যাত ফ্যাশন সাংবাদিক (Fashion Journalist) হিসেবে। স্টাইল, সংস্কৃতি ও সময়ের রুচি নিয়ে লেখা তাঁর প্রবন্ধ আজও প্রাসঙ্গিক।
তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়ে ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া সংগঠন সামাজিক মাধ্যমে (Social Media) এক আবেগঘন শ্রদ্ধার্ঘ্য প্রকাশ করেছে। সেখানে তাঁকে বলা হয়েছে সেই পথিকৃৎ, যিনি দরজা খুলেছিলেন, মানদণ্ড স্থাপন করেছিলেন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছিলেন।
ফেমিনা মিস ইন্ডিয়ার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম (Instagram) হ্যান্ডেলে শেয়ার করা হয়েছে মেহেরের একটি র্যাম্প ওয়াকের ভিডিও। কোনও নাটকীয়তা নয়, কোনও উচ্চস্বরে ঘোষণা নয়—শুধু অবিচল পদচারণা। প্রতিটি ধাপে যেন লেখা হচ্ছিল আত্মমর্যাদার ইতিহাস।
মেহের ক্যাস্তেলিনো আজ নেই, কিন্তু তাঁর দেখানো পথ রয়ে গেছে। ভারতীয় নারীদের স্বপ্নে, সাহসে ও আত্মবিশ্বাসী হাঁটায়—সেখানেই তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।
