রাজনীতি
তৃণমূল ভেঙে দিল সব শিক্ষক ও অধ্যাপক সংগঠন | রাজনৈতিক মহলে জল্পনার ঝড়
শিক্ষক ও অধ্যাপক সংগঠন একসঙ্গে ভেঙে দিল তৃণমূল। দলের অফিসিয়াল ঘোষণায় জানানো হয়েছে, পুজোর পর নতুন কমিটি আসবে। টেট বিতর্ক, চাঁদা সংগ্রহ ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বকেই কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) তাদের অধীনস্থ সমস্ত শিক্ষক (Teacher) ও অধ্যাপক (Professor) সংগঠন ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করল। বৃহস্পতিবার দলের অফিসিয়াল X হ্যান্ডেল থেকে এই বার্তা প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। জানানো হয়েছে, পুজো (Pujo) মিটলেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর জন্মদিনে এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দলের অন্দরমহল থেকে নানা ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। অনেকে মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) যে নির্দেশ দিয়েছে— টেট (TET) উত্তীর্ণ না হয়েও প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতায় নিযুক্তরা দুই বছরের মধ্যে পরীক্ষা পাস করতে বাধ্য— সেটাই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। দলীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টির গুরুত্ব সরকারকে না জানানোর অভিযোগ উঠছে। বরং, প্রাক্তন সভাপতি অশোক রুদ্র সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষা দপ্তরে (Education Department) বিষয়টি অবহিত করেছিলেন।
অন্যদিকে, শিক্ষক সংগঠন সদস্যপদ বাবদ ২০০ টাকা (200 Taka) চাঁদা তুলছিল বলে ক্ষোভ তৈরি হয়। অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপার (WEBKUPA) মধ্যেও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ছিল প্রকাশ্য। সহসভাপতি মণিশংকর মণ্ডল দলবিরোধী কাজের অভিযোগে সাসপেন্ড হয়েছিলেন এবং সে সময় প্রকাশ্যে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সমালোচনা করেছিলেন। এদিন সংগঠন ভাঙার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘‘সেদিনও বলেছিলাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ, অভিষেক সেনা জিন্দাবাদ, আজও তাই বলব।’’ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের ভূমিকা এই সিদ্ধান্তে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
তবে কোন বিশেষ কারণে সংগঠন ভাঙা হল তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। দলের একাংশ বলছে, ‘‘ঝড়ে বক মরলে অনেক ফকির কেরামতির দাবি করে। সবই জল্পনা।’’ রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বারবার শিক্ষক সংগঠনে রদবদল শিক্ষকদের কাছে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।