ভোট দেওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা নিয়ে বিতর্ক, অভিযোগ অস্বীকার মন্ত্রীপুত্রর

জন দেখেছেন : 11
0 0
Read Time:4 Minute, 56 Second

বেঙ্গল এক্সপ্রেস নিউজ : ইভিএম মেশিনে নিজের ভোট দেওয়ার মুহূর্তের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে চরম বিতর্কে জড়ালেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পুত্র সায়নদেব চট্টোপাধ্যায়। আজ সকালেই পুত্রকে নিয়ে ভবানীপুরের কাঁসারি পাড়ার মন্মথ প্রাইভেট স্কুলে ভোট দিতে এসেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

তার কিছুক্ষণ পরই সায়নদেব চট্টোপাধ্যায়ের সোশ্যাল মিডিয়ার একটি অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। তাতে দেখা যায় একজন ইভিএমে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দিচ্ছেন। যদিও ভিডিওতে কারও মুখ দেখা যায়নি। এবং ওপরে লেখা হয়েছে, ‘আমার কাজটা করলাম। দিদিকে ভোট দিলাম। আমার নেত্রীকে ভোট দিলাম। বাংলার জন্য ভোট দিলাম। ভারতের জন্য ভোট দিলাম।’ এরপরই এইনিয়ে তুমুল শোরগোল পড়ে যায়। বিতর্ক আঁচ করতে পেরে কিছুক্ষনের মধ্যেই সেই ভিডিওটি ডিলিট করে দেন মন্ত্রীপুত্র। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী যেমন কোনও ব্যক্তি কাকে ভোট দিচ্ছেন, সেটা যেমন প্রকাশ্যে বলা যায় না তেমনই ভোট দেওয়ার সময় ইভিএমের ছবি তোলা তো দূরে, ভোটদান কক্ষের মধ্যে মোবাইল দিয়ে ঢোকাও নিষিদ্ধ।

সেখানে একজন ব্যক্তি কী করে ভোটদান কক্ষে মোবাইল নিয়ে ঢুকে নিজের ভোট দেওয়ার ছবি তুললেন, তা নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। মন্ত্রী-পুত্র সব ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ তুলে সেই ভিডিও নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি। রাজ্যের একজন মন্ত্রীর পুত্র এমনটা কী ভাবে করতে পারেন, সেই প্রশ্ন তুলে সায়নদেবের শাস্তি দাবি করেছে পদ্মশিবির। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়নদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টে কেউ এই ছবি পোস্ট করে পরে আবার তা ডিলিট করে দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে সায়নদেব বলেছেন, ‘গোটা ব্যাপারটায় আমি নিজেই অবাক হয়ে গিয়েছি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোট দিচ্ছি। ন্যূনতম নিয়মটুকু জানি।

যেখানে ভোট হয় সেখানে ফোন নিয়ে ঢোকা যায় না, তা আমি খুব ভালো করেই জানি। ভোট দিয়ে বেরোনর অনেকক্ষণ পরে একটা ফোন আসে আমার কাছে। বলা হয় যে আমার সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এমন একটা ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই খুলে দেখি যে সেটা ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। পরে গোটা ব্যাপারটা আমি সংবাদ মাধ্যমের থেকে জানতে পারি।’ কিন্তু আরও একটা বিষয় হল, এই ভোট দেওয়ার ভিডিওটি যে তাঁর নয়, সেটা তিনি একবারও বলেননি।

আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে তাহলে এই ভিডিওটি কে কীভাবে তুললো? গত বিধানসভা নির্বাচনে এই ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে পরাজিত হওয়ার পর তাঁকে ভবানীপুর কেন্দ্রে পুণরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দিতে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন বর্ষীয়ান এই তৃণমূল নেতা। বর্তমানে তিনি রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী তাঁকেও ছয় মাসের মধ্যে জিতে আসতে হবে। তারপরই খড়দহতে প্রয়াত তৃণমূল প্রার্থী কাজল সিনহার জায়গায় তাঁকে দাঁড় করানোর কথা ঘোষণা করে তৃণমূল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Next Post

শেষবেলায় বিজেপি নেতা কল্যাণ চৌবের গাড়ি ভাঙচুর, রিপোর্ট তলব কমিশনের

Thu Sep 30 , 2021
বেঙ্গল এক্সপ্রেস নিউজ : সকাল থেকেই ভবানীপুর কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথে ভোটদানের হার ছিল খুবই কম। লাইনে ছিল ফাঁকা। কিন্তু বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের লাইন বাড়তে থাকে। তেমনই সকাল থেকে দু-একটি বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই হচ্ছিল ভোট। তবে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই শেষবেলায় অশান্তিহীন রইল […]