নদিয়ার প্রশাসনিক বৈঠকের মঞ্চ থেকেই সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
Connect with us

বাংলার খবর

নদিয়ার প্রশাসনিক বৈঠকের মঞ্চ থেকেই সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

Rate this post

বেঙ্গল এক্সপ্রেস নিউজ: সামনেই কলকাতা পুরভোট। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যের সমস্ত পৌরসভার বকেয়া ভোট অনুষ্ঠিত হবে। আর সেই ভোটে গোষ্ঠী কোন্দল যে দলকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে, তা ভালো মতই আঁচ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাই বৃহস্পতিবার নদিয়ার ককৃষ্ণনগরের রবীন্দ্র ভবনে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে জেলার দলীয় সাংসদ, বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিদের কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিশেষ করে সাংসদ মহুয়া মৈত্রর নাম করে সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী। কৃষ্ণনগরের সাংসদকে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ভোটে কে, কোথা থেকে লড়াই করবে, তা ঠিক করবে দল। সেই সিদ্ধান্তের কোনও নড়চড় হবে না। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একুশের বিধানসভা ভোটে রাজ্য জুড়ে তৃণমূল বিপুল সাফল্য পেলেও নদিয়ার ফল নিয়ে খুশি ছিল না দল। বিশেষ করে রানাঘাট মহকুমায়। তার জন্য গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই কাঠগড়ায় তোলেন স্থানীয় নেতৃত্বের একএকাংশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মহুয়া মৈত্রর সম্পর্ক বরাবরই ভালো। গোয়ায় সংগঠনকে মজবুত করতে বাড়তি দায়িত্ব দিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু গত লোকসভা ভোটের পর থেকেই মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে জেলা নেতৃত্বের একাংশ ক্ষোভ জানিয়েছিল খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। জেলার প্রবীণ নেতৃত্বের পাশাপাশি প্রাক্তন ও বর্তমান বিধায়করাও বারবার অভিযোগ করেছেন, মহুয়া মৈত্র তাঁদের সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ না রেখেই নিজের মতো কাজ করেন।

এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মহুয়া মৈত্র। মঞ্চের নিচে আসনে বসেছিলেন কৃষ্ণনগরের পুর প্রশাসক নরেশ দাস। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী আসন্ন পুরভোটের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন। তারপরই মহুয়া মৈত্রর নাম করে কড়া ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মহুয়া এখানে আমি একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই। কে কার পক্ষে, বিপক্ষে, আমার দেখার দরকার নেই। আমি সাজিয়ে গুছিয়ে কিছু লোক পাঠিয়ে ইউটিউবে অথবা ডিজিটালে অথবা পেপারে দিয়ে দিলাম। এই রাজনীতি একদিন চলতে পারে, চিরদিন নয়। একই লোক চিরদিন এক জায়গায় থাকবে এটাও মেনে নেওয়াটা ঠিক নয়। যখন ভোট হবে পার্টি ঠিক করবে কে লড়বে, কে না। এখানে মতপার্থক্যের কোনও জায়গা নেই। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এটা আমি বলে গেলাম।’ একই সঙ্গে জেলার বিডিও, জেলাশাসক, জেলার ওসি এবং আইসিদেরও একসঙ্গে, যোগাযোগ রেখে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement