স্কুলের র‍্যালিতে দেওয়া কেক-লিচুর জুস খেয়ে অসুস্থ একাধিক পড়ুয়া, ভর্তি হাসপাতালে
Connect with us

বাংলার খবর

স্কুলের র‍্যালিতে দেওয়া কেক-লিচুর জুস খেয়ে অসুস্থ একাধিক পড়ুয়া, ভর্তি হাসপাতালে

Published

on

Rate this post

বেঙ্গল এক্সপ্রেস নিউজ: প্লাস্টিক না ব্যবহারের জন্য জনসচেতনামূলক এক ব়্যালির আয়োজন করা হয়েছিল। সেই ব়্যালিতে অংশ নিয়েছিল গ্রামের স্কুলের পড়ুয়ারা। সেই ব়্যালির শেষে অংশগ্রহণকারী পড়ুয়াদের দেওয়া হয় কেক ও জুস। সেই কেক ও জুস খেয়েই অসুস্থ হয়ে পড়ল স্কুলের একাধিক পড়ুয়া। ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের মেমারি থানার নবস্থা ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের আউশাগ্রামে। গোটা ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। উত্তেজিত গ্রামবাসীরা পঞ্চায়েতের অ্যাম্বুলেন্স ভাংচুর করার পাশাপাশি পঞ্চায়েতে আধিকারিকদের হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। উত্তেজিত জনতার উপর পুলিশ পাল্টা লাঠিচার্জ করে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার সকালে বর্ধমান ২ নম্বর ব্লকের আউশা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্লাস্টিক বর্জন নিয়ে এক ব়্যালির আয়োজন করা হয়েছিল। তাতে অংশ নিয়েছিল একাধিক পড়ুয়া। অভিযোগ, ব়্যালির শেষে পড়ুয়াদের যে কেক ও জুস খেতে দেওয়া হয়েছিল, তা খাওয়ার পরই পড়ুয়াদের মাথাঘুরতে শুরু করে। সেই সঙ্গে বমি করতে থাকে। অনেক পড়ুয়া অজ্ঞান হয়ে যায়। পড়ুয়ারা অসুস্থ হয়ে পড়লেও দীর্ঘক্ষণ স্কুল ও পঞ্চায়েতের তরফে কোনও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি বলেই অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ এসে অসুস্থ পড়ুয়াদের বর্ধমান হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্ধমান হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও সেখানে ৬৫ জন পড়ুয়া ভর্তি রয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মেমারির নবস্থা ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের আউশাগ্রাম। উত্তেজিত গ্রামবাসীরা পঞ্চায়েতের অ্যাম্বুলেন্স ভাংচুর করার পাশাপাশি আধিকারিকদেরও হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদের রাস্তা আটকে বিক্ষোভও দেখান তাঁরা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মেমারি ও শক্তিগড় থানার পুলিশ। পুলিশকে দেখেই আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায় উত্তেজিত জনতার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাল্টা লাঠিচার্জ করে পুলিশ।
অভিভাবকরা জানিয়েছেন, ‘আমরা স্কুলে বাচ্চাদের পাঠাই লেখাপড়া করার জন্য। কোনও র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করার জন্য নয়। কিন্তু স্কুল বলেছিল পঞ্চায়েত থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই বাচ্চাদের পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সেই র‍্যালিতে দেওয়া কেক ও জুস খেয়েই বাচ্চা গুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার পরও স্কুল বা পঞ্চায়েতের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিনা চিকিৎসায় বাচ্চাগুলোকে ফেলে রেখেছিল।’

বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমা শাসক তীর্থঙ্কর বিশ্বাস এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘যে কেক ও লিচুর জুস খেয়ে পড়ুয়ারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে, তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনও গাফিলতি আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এবং যে দোকান থেকে ওই লিচুর জুস ও কেক কেনা হয়েছিল, সেই দোকনটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

Advertisement
Continue Reading
Advertisement
Ads Blocker Image Powered by Code Help Pro

Ads Blocker Detected!!!

We have detected that you are using extensions to block ads. Please support us by disabling these ads blocker.